রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১২

শব-ই-ক্বদর ২০১২ (৫ বন্ধু একসাথে)



শব-ই-ক্বদরে দ্বিতীয়বারের মত রাত ১২টা নাগাদ আমি মসজিদে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার ৪ বন্ধু আগে থেকেই মসজিদে আছে। আমরা ঠিক করলাম রাত ১:৪৫ এর দিকে বাইরে বের হব। ইতোমধ্যে আমরা সবাই ১২ রাকাত ক্বদরের নামায, ৮ রাকাত তাজাজ্জুদ ও ৪ রাকাত সালাতুত তাসবীহ পড়লাম। ঘড়ির কাঁটায় তখন ২:০৫ বাজে। আমরা চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। কিন্তু খুব একটা দোকান খোলা পেলাম না ইচ্ছা ছিল তখনই তেহারী বা মোরগ পোলাও যা পাই তাই খাব ... কিন্তু চা এর দোকান ছাড়া আর কিছু পেলাম না ... অবশেষে একটি দোকান পেলাম যেখানে তেহারী আছে কিন্তু ৫ জনের হবে না। উপায় না দেখে আমরা মসজিদে ফিরে এলাম। মাঝে অবশ্য ... বাপ্পী কাদের বলে উঠল সেহরি কই করবি ... শিহাব বলে উঠল সেহরুন মানে জাদু ... সেহরি মানে জাদুকর ... জোফেন বলল এহ আইছে “দুবাই ফেরত দুম্বা”।তখন বাজে সময় রাত ২:৪০। দেখি মসজিদে জিকির শুরু হয়ে গেছে। আমরা জিকির ও মুনাজাতে অংশগ্রহন করলাম। মুনাজাত শেষ হল ৩:১০। এর মধ্যেই . শাহরিয়ার বাপ্পী আমাদের থেকে বিদায় নিল কারণ সে আবার বাসা ছাড়া বাইরে সাহরী করে না।

পথিমধ্যে যেহেতু  রবিন বাসা পরে তাই জোফেন ফোন দিল এমন একটা ভাব যে এখনই টাকা ধার লাগবে আসলে রবিন কে বারান্দায় আনাটা ছিল ওর প্ল্যান এবং সেও এল তবে খালি গায়ে ... জোফেন বলল যা লাগব না তোরে এমনি ডাকিয়ে আনলাম (যে কাজটা আমরা ভোরে নামায শেষে . দ্বিজেন সাথে করি ... তবে এবারও করা হয় নাই) আমরা ৪ জন খিলগাঁও রেলগেট এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ঐখানে সারা রাত ই খাবার হোটেল খোলা থাকে। আমরা রাত ৩:৩৫ নাগাদ পৌছালাম। কয়েকটি হোটেল খোলা ছিল আমরা একটিতে ঢুকে কোন রকমে জায়গা পেলাম। শিহাব ঢুকেই বলল এই ওয়েটার ওয়েটার। আমি বললাম ওই তুই কি থ্রী-ষ্টার হোটেল এ আসছিস যে ওয়েটার বলে চিল্লাচ্ছিস। পরক্ষনেই ... বাপ্পী বলল এই ভাইগ্না কি আছে ... আমি বললাম এই লোক তোর ভাইগ্না হয় কেমনে ... পরে এইবার বাপ্পী ডাকল এই মামা কি আছে ... এইবার লোক জবাব দিল। আমরা ৫ টি করে পরোটা, ১ পিচ করে গরুর মাংস ও ১টি করে ডিম এর অর্ডার দিলাম। আমি বললাম এরা কিন্তু ৩টা ডিম কে চারটা বানিয়ে দিবে... এই শুনে জোফেন অর্ডার দিল ডিম চারটা হবে ১) পোজ, ২) পেঁয়াজ সহ পোজ, ৩) পেঁয়াজ দিয়ে অমলেট ৪) পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে কসিয়ে অমলেট। আমরা খাওয়া দাওয়া শেষে পানি খেলাম এবং খিলগাঁও রেলগেট থেকে ব্যাটারী চালিত গাড়ীতে সবাই একসাথে ফিরলাম।

ঘড়িতে তখন রাত ৪:১৪ ফজরের আজান দিচ্ছে। এক আঙ্কেলের সাথে দেখা তিনি জোফেন কে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি এত ফুলে গেছ কেন তুমি কি বিয়ে করছ ... জোফেন বলল জি আঙ্কেল ... আমরা অবাক হলাম এবং বললাম এটা ঐ আঙ্কেল কেমনে বুঝল তখন শিহাব আমাকে বিভিন্ন থট দিলে...পরে আমরা ওজু করে ৪:৩০ এর দিকে ফজরের নামায জামাতে পড়লাম। বাপ্পীর তাড়া ছিল ও আবার ওর আব্বার সাথে কুমিল্লা যাবে। আমাদের থেকে তখন বিদায় নিল। মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষ হতে হতে ৫টা বেজে গেল। মসজিদে প্রায় সবাই চলে গেছে। আমরা তিনজন, এতেকাফ এ বসা তিনজন ও একজন ছিল যার জুতা চুরি হয়ে গেছে। আমরা লাইট বন্ধ করে ২৫ মিনিটের মত মসজিদে ঘুমালাম। কিছুক্ষণ পর মোয়াজ্জিন এসে আমাদের কে বলল ভাই বাড়ি যান। মসজিদের গেট বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা তিনজন ৪ রাকাত ইশরাকের নামায পড়ে বের হলাম সময় ভোর ৫:৪০ এবং যার যার বাসায় চলে গেলাম। শিহাব অবশ্য শাহজাহানপুর গোরস্তানে গেল। ওর আব্বার কবর জিয়ারত করতে...



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন